১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,গ্রীষ্মকাল

প্রচ্ছদ > পাহাড়ে রঙিন ফুলকপি চাষের দারুণ সম্ভাবনা, বেশি লাভ রঙিন ফুলকপিতে

পাহাড়ে রঙিন ফুলকপি চাষের দারুণ সম্ভাবনা

পাহাড়ে রঙিন ফুলকপি চাষের দারুণ সম্ভাবনা, বেশি লাভ রঙিন ফুলকপিতে

দুই জাতের এই ফুলকপি প্রথমবার চাষ করে সফল হয়েছেন রাঙামাটির কাউখালীর ঘাগড়া ইউনিয়নের চেলাছড়া গ্রামের মঙ্গলদেবী চাকমা। রাঙামাটির কাউখালীর ঘাগড়া ইউনিয়নের চেলাছড়া গ্রামের মঙ্গলদেবী চাকমা জানতেনই না রঙিন ফুলকপি পাওয়া যায়। একটির রঙ গোলাপি, অপরটি হলুদ  দুটির নামও সুন্দর ভ্যালেন্টিনা (গোলাপি) ও ক্যারোটিনা (হলুদ) ।

স্থানীয় কৃষি অফিসের দেওয়া বীজ লাগিয়েও বিশ্বাস করে উঠতে পারেননি ক্ষেত রাঙানো রঙিন ফুলকপি হবে। দুই মাস পর যখন ফলন এলো তখন মঙ্গলদেবী বিষ্মিত। একদিকে রঙিন ফুলকপিতে রেঙে উঠেছে পুরো ক্ষেত, অন্যদিকে সাধারণ ফুলকপির চেয়ে দ্বিগুণ দাম।

প্রথমবারের মতো গোলাপি ও হলুদ রঙের ফুলকপি চাষ করে সফল হয়েছেন মঙ্গলদেবীসহ স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। তারা বলছেন, শীতকালে ফুলকপি চাষের মৌসুম হলেও ন্যায্য দাম পাওয়া যায়না। এজন্য রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন এবার। চাহিদাও বেশ। সাধারণ ফুলকপির তুলনায় দামও বেশি পাচ্ছেন।

একই মাঠে কাছাকাছি ফুলকপির ক্ষেত শুধু রঙিন ফুলকপিই নয়, সাথি ফসল হিসেবে ব্রকলি, বাঁধাকপি ও টমেটোসহ কয়েক জাতের সবজি চাষ করেছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে সেগুলো ক্ষেত থেকে তুলে বিক্রি করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, কাউখালী উপজেলায় এবার দুই হেক্টর জমিতে ভ্যালেন্টিনা (গোলাপি) ও ক্যারোটিনা (হলুদ) জাতের ফুলকপির চাষ হয়েছে। সাধারণ ফুলকপি চাষের পদ্ধতিতেই একই খরচ, পরিশ্রম ও উৎপাদনের সময়ে ফলন পাওয়া যায়। বাজারমূল্যও প্রায় দ্বিগুন।

মঙ্গলদেবী চাকমা বলেন, ফুলকপি রঙিন হতে পারে এটা জানা ছিল না। কৃষি অফিস থেকে বীজ নিয়ে লাগানোর দুই মাসের মধ্যে ফলন আসার পর দেখি রঙিন। দেখে আমরা সবাই অবাক হয়ে যাই। সেগুলো বিক্রি করে বাজারে ভালো দাম পেয়েছি আগামীতেও চাষ করবো।

রঙিন ফুলকপির সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে ব্রকলি চাষ করেছেন এই গ্রামের কৃষক মধুসেন চাকমা। তিনি বলেন, প্রতিটি রঙিন ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা বিক্রি করেছি। ব্রকলির বিক্রি করেছি ৬০-৭০ টাকায়। প্রতিবেশিদের খেতেও দিয়েছি। সাদা ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপি ও ব্রকলিতে বেশি লাভ হয়েছে।

আগামী বছরের জন্য বীজ ও অন্যান্য সহায়তা চাওয়ার কথা জানিয়ে একই গ্রামের কৃষক জয় সিংহ চাকমা বলেন, সাদার চেয়ে রঙিন ফুলকপির দাম বেশি। সেজন্য কৃষি অফিস থেকে আগামী বছরের জন্য বীজ ও অন্যান্য সহায়তা চেয়েছি। যাতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে পারি।

উপজলো কৃষি কর্মকর্তা রাসেল সরকার বলেন, পাহাড়ে রঙিন ফুলকপি চাষের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদেরও আগ্রহ আছে। বীজ ও সারসহ সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছি আমরা। রঙিন ফুলকপিতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বাণিজ্যিকভাবে চাষ বাড়াতে সার্বিক সহায়তা করছে কৃষি বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *