নওগাঁ জেলা আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। আমের মুকুলের সুবাস ছড়াচ্ছে নওগাঁয়।
আমের মুকুলের ম-ম ঘ্রাণে ছেয়ে গেছে চারপাশ। সেই সুমিষ্ট সুবাস মাতিয়ে তুলছে সকলকে।দূর থেকে তাকালেই দেখা যাচ্ছে, গাছে গাছে ঝুলে থাকা অসংখ্য মুকুল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৌমাছির গুঞ্জন। কৃষকের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। কারণ গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাগানের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ গাছেই এবার মুকুল এসেছে। ফলে এ বছর উচ্চ ফলনের আশা করছেন জেলার কৃষকরা।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৮০ শতাংশ গাছেই মুকুল এসেছে। বাগান মালিক, কৃষিবিদ ও আমচাষিরা জানান, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের বাম্পার ফলন হবে।
এ আশায় আমচাষি ও বাগান মালিকরা বাগান পরিচর্যায় পার করছেন ব্যস্ত সময়। অবশ্য গাছে মুকুল আসার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করে আসছেন তারা। যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়।
সাপাহার উপজেলার বিদ্যানন্দি গ্রামের আমচাষি মজনু বলেন, নিজস্ব ৩ বিঘা জমিতে আম বাগান আছে। গত বছরের তুলনায় বাগানে মুকুলের পরিমাণ অনেক বেশি। মুকুলের এই সময়টাতে উকুন পোকা, মাছি এবং কারেন্ট পোকা আক্রমণ করে। উকুন, মাছি এবং কারেন্ট পোকা যেন মুকুলের কোনো ক্ষতি করতে না পারে, তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কীটনাশক প্রয়োগ করছি। গত মৌসুমে ৩ বিঘা জমি থেকে আম বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা পেয়েছিলাম। এবার শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করি গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ টাকা পাব।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বছর শুরু থেকেই আবহাওয়া আম চাষের অনুকূলে রয়েছে। কয়েক বছরের তুলনায় বাগানগুলোতে এ বছর মুকুলের পরিমাণ অনেক বেশি। প্রায় ৯০ শতাংশ গাছেই এবার মুকুল এসেছে। আমের উৎপাদন ঠিক রাখতে এই মুহূর্তে কৃষকদের প্রয়োজনীয় ছত্রাকনাশক এবং পানি স্প্রের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে আশা করা যাচ্ছে এ বছর আমের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হবে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় এ বছর ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির বগানে আমের চাষ হয়েছে। যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ৪ লাখ ৫০ হাজার টন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গত বছর জেলায় ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল, যা থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার টন। গেল বছরের তুলনায় জেলায় এ বছর ২০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।







