১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,গ্রীষ্মকাল

প্রচ্ছদ > গমের আবাদ বেড়েছে মেহেরপুরে, লক্ষ্যমাত্রা ৫৩ হাজার টন উৎপাদন

গমের আবাদ বেড়েছে মেহেরপুরে, লক্ষ্যমাত্রা ৫৩ হাজার টন উৎপাদন

চলতি বছরে ব্লাস্ট প্রতিরোধী ও জিংক সমৃদ্ধ উচ্চফলণশীল গমের নতুন নতুন জাত কৃষকদের হাতে আসায় এবার গমের আবাদ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় চাষ হয়েছে ১৩ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। ব্লাস্ট প্রতিরোধী ও জিংক সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল নতুন নতুন জাতের গম বারি ৩০, ৩৩ ও বিডব্লিউ-৩ জাতের গম চাষ করছেন চাষিরা। গমের ফলন ধরে রাখতে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে কৃষিবিভাগ।

মেহেরপুর জেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৩ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে। যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৬৬ টন। প্রতি হেক্টর জমিতে ৪.১ টন উৎপাদন হবে।

জেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গমের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। গত কয়েক বছর ধরে ব্লাস্ট রোগের কারণে গমের আবাদ কম হয়েছে এ জেলায়। অনুকূল আবহাওয়া ও গত বছরে ভালো মূল্য পাওয়ায় এই বছরে গম চাষে আগ্রহী হয়েছেন জেলার চাষিরা।

কৃষি বিভাগ বলছেন, মেহেরপুর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া গম চাষের জন্য উপযোগী। গত কয়েক বছর ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় কৃষি বিভাগ থেকে এখানকার চাষিদের গম চাষে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। গত বছর ব্লাস্ট প্রতিরোধী ও জিংক সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল গমের নতুন নতুন জাত আবাদ করে কৃষকরা সেই  শঙ্কামুক্ত হয়েছেন।

গম চাষি গাংনী উপজেলার ধর্মচাকি গ্রামের লিটন মাহমুদ জানান, এ বছর আমার তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। এক বিঘা জমিতে গম চাষ করতে সার, বীজ, চাষ, সেচসহ সব মিলিয়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এক বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২২ মণ গম উৎপাদন হবে। গত বছরের মত দাম থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন এবার।

গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের চাষি সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার তিনি আট বিঘা জমিতে গম চাষ করেছেন। গত বছর আবাদ করেছিলেন ছয় বিঘা জমিতে। গত বছরে রোগবালাই ছিল না। তাই ফলন ও দাম দুটোই ভালো পেয়েছি। এবার বেশি করে গম চাষ করেছি।

তিনি আরও জানান, গম ক্ষেতে কোনো রোগবালাই দেখা দিলে কীটনাশক বিক্রেতারা যা বলেন তাই শুনতে হয়। কিন্তু কৃষি অফিসের লোকজনকে পাওয়া যায় না।

চাষিরা অভিযোগ করে বলেন, কৃষি অফিসের কোনো পরামর্শ পাওয়া যায় না। গম ক্ষেতে রোগবালাই দেখা দিলে কীটনাশক বিক্রেতা চাষিদের একমাত্র ভরসা।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, মেহেরপুরে তাপ, খরাসহিষ্ণু জমি গম আবাদের জন্য উপযোগী। ব্লাস্ট প্রতিরোধী ও জিংক সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল গমের নতুন নতুন জাত চাষিদের গম চাষে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। দেশে গমের উৎপাদন বাড়াতে রোগ প্রতিরোধী ও জিংক সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল নতুন নতুন জাতের গম আবাদের চাষিদেরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *