পাইকারদের ২৫ , খুচরা ব্যবসায়ীদের ২ টনের বেশি পেঁয়াজ মজুত নিষেধ

কোন কোন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে ভারতে । রেকর্ড দাম থাকলেও দেশটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই নিত্যপণ্যটির দাম। তাই দামের লাগাম টানতে মজুতের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিয়ে পাইকারদের ২৫ , খুচরা ব্যবসায়ীদের ২ টনের বেশি পেঁয়াজ মজুত নিষেধ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

পণ্য আইন সংশোধনের পর এই প্রথম কোনও পণ্য মজুত করার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হল দেশটিতে। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্দেশে বলা হয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাইকারি ব্যবসায়ীরা ২৫ টনের বেশি এবং খুচরো ব্যবসায়ীরা ২ টনের বেশি পেঁয়াজ মজুত করে রাখতে পারবেন না।

বাজারে পেঁয়াজের দাম উত্তরোত্তর বাড়বে আঁচ করে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ মজুত করতে শুরু করে লাভের আশায়। এতে পেঁয়াজের জোগানে ঘাটতি হয়। ফলে দাম আরও চড়ছে। এটা যাতে আর না হয় সে জন্যই এ বার পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ীদের জন্য পেঁয়াজ মজুত করার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হল। ক্রেতাদের সুবিধার্থে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের ক্রেতা বিষয়ক মন্ত্রকের সচিব লীনা নন্দন।

সম্প্রতি একটি কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যানে দেশটিতে গত অক্টোবর মাস থেকেই দেশে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। একটি সমীক্ষা জানিয়েছে, আগামী ৩ মাস এই মু্দ্রাস্ফীতি কমার তো কোনও লক্ষণ নেই-ই, বরং তা আরও বাড়বে। এই মুদ্রাস্ফীতির ৪৬ শতাংশই হচ্ছে আলু, পেঁয়াজ, ডিম আর টমাটোর দামের জন্য।

গত সেপ্টেম্বর মাস থেকেই দেশের বিভিন্ন শহরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আলু, পেঁয়াজের দাম। তাতে লাগাম টানতে সবজিপণ্য বিদেশে রফতানি কমিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যান্য দেশ থেকে পণ্য আমদানির পরিমাণও বাড়ানো হয়। তা ছাড়াও বাফার স্টক থেকে ৪০ হাজার টন পেঁয়াজ খুচরো বাজারে সরবরাহ করা হয়, যাতে দামের ঊর্ধ্বগতিতে লাগাম টানা যায় ।

গত ২১ অক্টোবর সারা দেশে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম ছিল কেজি-পিছু ৫৫ টাকা। যা আগের বছরের এই সময়ের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানেই জানানো হয়েছে, অতিবৃষ্টির দরুন ফলনের ক্ষতি হওয়ায় এ বার সেপ্টেম্বর থেকে আলু, পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে পড়েছে।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...