নওগাঁয় মাটি ছাড়াই সবজি চারা উৎপাদন এমরান আলী

নওগাঁর মহাদেবপুরে ‘কোকো ডাস্ট’ পদ্ধতিতে মাটি ছাড়াই আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত জাতের সবজির চারা উৎপাদন করছেন সরদার ফারমার্স হাব নামের একটি নার্সারি। মাটির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে কোকো ডাস্ট (নারিকেলের ছোবড়ার ধুলা)। নেট হাউজের ভেতরে উৎপাদন করায় রোগ থেকে রক্ষা পাচ্ছে এসব চারা। আর আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করায় এসব চারার মানও বেশ ভাল।

মহাদেবপুর সদর ইউনিয়নের শালগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা এমরান আলী। তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত জাতের সুস্থ-সবল সবজি চারা উৎপাদন করা পরিকল্পনা করেন। এক সময় সেই পদ্ধতিও তিনি পেয়ে যান। এরপর শুরু করেন আধুনিক পদ্ধতিতে সবজির চারা উৎপাদন। কৃষিভিত্তিক এনজিও এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শে বর্তমানে তিনি সফলতাও পেয়েছেন।

এমরান আলী বলেন, মাটিতে চারা উৎপাদন করলে আবহাওয়ার কারণে নানান ধরনের ব্যাঘাত ঘটতো। গত বছরের নভেম্বর মাসে সিনজেনটা ফাউন্ডেশনের ফারমার্স হাব-এর সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে দুই শতক জমিতে সবজি নার্সারি গড়ে তুলি। আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে গ্রিন হাউজের আদলে তৈরি করি নেট হাউজ। এতে অল্প খরচে পেঁপে, করলা, চাল কুমড়া, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, টমেটো, লাউসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। এছাড়াও গোলাপ, গাধাঁ, অর্কিড, অ্যান্ধরিয়াম, চন্দ্র মল্লিকা ফুলের চারাও উৎপাদন করা যায়।

তিনি আরও বলেন, কোকো ডাস্ট ব্যবহার করে কেঁচো সারের সমন্বয়ে মাটি ছাড়াই সবজির চারা উৎপাদন করা হচ্ছে প্লাস্টিক ট্রে তে। আধুনিক এ পদ্ধতিতে তৈরি হাউজের চারপাশে নেট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ নিশ্চিত হয় এবং ক্ষতিকারক পোকামাকড় থেকেও সবজির চারাগুলো রক্ষা পায়। তাপ নিয়ন্ত্রণ ও ঝড়-বৃষ্টি থেকে চারাগুলো নিরাপদে রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ পলিথিন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, আধুনিক এ প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে চাষিরা দারুণ লাভবান হবেন। অপরদিকে মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং রোগ বালাইয়ের কারণে সবজি উৎপাদনে যে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে তা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবো।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...