আষাঢ় মাসে গরমের দাপট কমাতে আগমন হয় বর্ষা ঋতুর। বৃষ্টির ছোঁয়ায় নদী, খাল, বিল ফিরে পায় যৌবন। গাছপালা পায় সবুজ প্রাণ। কৃষিকাজেও নিয়ে আসে ব্যাপক ব্যস্ততা। তাই জেনে নেওয়া জরুরি, আষাঢ় মাসে আমন ধান চাষে করণীয় সম্পর্কে।
আমন ধানের বীজতলা তৈরির সময় এখন। পানিতে ডুবে না এমন উঁচু খোলা জমিতে বীজতলা তৈরি করতে হবে। বন্যার কারণে রোপা আমনের বীজতলা করার মতো জায়গা না থাকলে ভাসমান বীজতলা বা দাপগ পদ্ধতিতে বীজতলা করে চারা উৎপাদন করা যায়।বীজতলায় বীজ বপন করার আগে ভালো জাতের মানসম্পন্ন বীজ নির্বাচন করতে হবে।
প্রতিকূল পরিবেশ উপযোগী জাতসমূহ: যেমন- বিনাধান-৭, বিনাধান-১৬, বিনাধান-১৭, ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬৬ এবং ব্রি ধান৭১ (খরা প্রবণ এলাকার জন্য); বিনাধান-১১, বিনাধান-১২, ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২ এবং ব্রি ধান৭৯ (জলমগ্নতা সহনশীল, বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য); বিনাধান-২৩, এবং ব্রি ধান৭৮ (জোয়ার-ভাটা প্রবণ লবণাক্ত এলাকার জন্য); এবং ব্রি ধান৭৫ ব্রি ধান৮০, ব্রি ধান৮৭ এবং বিনাধান-১৬, বিনাধান-১৭ (পাহাড়ি এলাকার জন্য)। সাথে সাথে অনুকূল পরিবেশ উপযোগী অঞ্চলে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি এবং লাভজনক শস্যবিন্যাসের জন্য উচ্চ ফলনশীল স্বল্প-জীবনকাল বিশিষ্ট জাত নির্বাচন অতি প্রয়োজন। স¦ল্পমেয়াদি জাত (জীবনকাল ১২০ দিনের কম) যেমন- বিনাধান-৭, বিনাধান-১৬, বিনাধান-১৭, বিনাধান-২২, বিনাধান-২৬, ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১, ব্রি ধান৭৫, বিভিন্ন হাইব্রিড জাত, ইত্যাদি চাষ করতে পারেন।
ভালো চারা পেতে প্রতি বর্গমিটার বীজতলার জন্য ২ কেজি গোবর, ১০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ১০ গ্রাম জিপসাম সার প্রয়োগ করা যায়। আষাঢ় মাসে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করা যায়; মূল জমিতে শেষ চাষের সময় হেক্টরপ্রতি ৯০ কেজি টিএসপি, ৭০ কেজি এমওপি, ১১ কেজি দস্তা এবং ৬০ কেজি জিপসাম দেয়া প্রয়োজন; জমির এক কোণে মিনিপুকুর খনন করে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন যেন পরবর্তীতে সম্পূরক সেচ নিশ্চিত করা যায়।







