কুমিল্লায় ব্ল্যাকবেরি তরমুজের বাম্পার ফলন, লাভও বেশি

ব্ল্যাকবেরি তরমুজ। এটি বারোমাসি ফল। স্বাদে বেশ মিষ্টি। ফলন ও বিক্রিও হয় ভালো। এই জাতের তরমুজ কুমিল্লায় প্রথম চাষ করছেন সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা উত্তর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের কৃষক কাজী আনোয়ার হোসেন। কুড়ি শতক জমিতে মাত্র ৩৬ হাজার টাকা খরচ করে তিনি দুই মাসে আড়াই লাখ টাকা আয় করেছেন। খেতের ফলন দেখতে প্রতিদিনই ভিড়ও জমাচ্ছেন আশপাশের এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আনোয়ার হোসেনের খেতে মাচার নিচে থরে থরে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। সামান্য বাতাসে এগুলো দোল খাচ্ছে। তিনি একটি একটি করে তরমুজ কাটছেন আর ঝুড়িতে তুলছেন। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি করছেন ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। খুচরা ও পাইকারি ক্রেতারা খেত থেকে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন।
জেলার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাজার থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা আবদুল ওহাব বলেন, ‘খবর পেয়ে এসেছি। জমিতে বিভিন্ন আকারের তরমুজ, দামে ভিন্নতা আছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন তিন থেকে চার কেজি। কেজি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা দরে কিনেছি। এগুলো ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।
চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ইউটিউবে দেখে আমি ব্ল্যাকবেরি তরমুজ চাষে আগ্রহী হই। এরপর কিশোরগঞ্জ থেকে বীজ সংগ্রহ করে কুড়ি শতক ধানি জমি তরমুজ চাষের জন্য প্রস্তুত করি। পরে তরমুজের বীজ বপন করি। তরমুজের চারা বড় হলে সেগুলো বাঁশ দিয়ে তৈরি মাচায় ছড়ানো হয়। এরপর প্রথমে ফুল আসে। পরে ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসে কালো রঙের তরমুজ। দুই মাসের মধ্যে তরমুজ পরিপক্ব হয়। কালো রঙের তরমুজের ভেতরে রক্তাক্ত লাল বর্ণ স্বাদে বেশ মিষ্টি। করোনাকালে তরমুজ বিক্রি করে লাভ হয়েছে। এবার আরও বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করব।

 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিদা খাতুন বলেন, কাজী আনোয়ার হোসেন কুমিল্লা অঞ্চলে প্রথম ব্ল্যাকবেরি প্রজাতির তরমুজ চাষ করছেন। এ তরমুজের চাষ বারোমাস হয়ে থাকে। প্রথমে তিনি ২০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেন। প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমন প্রক্রিয়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে তাকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ফলন দেখে ভালো লাগছে। ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে ৬৫ দিনে তিনি আড়াই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। কম সময়ে তরমুজ চাষে কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারবেন। তাই এই প্রজাতির তরমুজ চাষ সম্প্রসারণ করার জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...