আউশের বাম্পার ফলন শায়েস্তাগঞ্জে

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। ক্ষেত থেকে ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকেরা। ধানের দাম ভাল থাকায় কৃষকের মুখেও হাসি ফুটেছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় পাকা ধান তোলা নিয়ে অনেকের কপালেই চিন্তার ভাজ দেখা গেছে।

স্থানীয় ও উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এ বছর ৪ হাজার ৬’শ ১০ হেক্টর জমিতে বর্ষালী আউশ ধানের চাষ করেন কৃষকেরা। এর মধ্যে কৃষকেরা উপসি জাতের আউশ ৪হাজার ৪’শ ৯০ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের ১’শ ২০ হেক্টর ধান চাষ করেছে। উপজেলার সুরাবই গ্রামের কৃষক ফরিদ হোসেন বলেন, সরকারি প্রণোদনা আউশ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বীজ সহায়তা দেওয়ায়, এ বছর আমাদের প্রতিবেশী অনেকেই আউশ ধান চাষ করেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে সময় মত জমি পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করায় অন্য বছরের তুলনায় ভালো ফলন পেয়েছে তারা। পুরাসুন্দা গ্রামের কৃষক বেলাল মিয়া বলেন, গত দুই সপ্তাহ আগে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে মাড়াইয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বাজারে ধানের দাম ভালো। অন্য ধানের চেয়ে বর্ষালী আউশ আবাদে লাভ বেশি। লাভ বেশি হওয়ায় আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আউশ আবাদ করবেন বলে জানান তারা ।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আউশ আবাদ জমির পরিমাণ-১৩৫০ হেক্টর। এবার আমাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা -৪৫০০ টন (সম্ভাব্য) ৩.৫ টন/হেক্টর।আসন্ন আমন আবাদের টার্গেট ২০০০ হেক্টর। বর্তমানে আউশ কর্তন ৭৫ শতাংশ শেষ। ধানের বাজার মূল্য ৬৫০ টাকা/মণ (ভেজা) ৯৫০ টাকা/মণ (শুকনো)। আউশ আবাদে খরচ তুলনামূলক কম, তাই লাভ বেশী। সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার কারণে কৃষকেরা আউশ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এবছর ধানের দাম বেশি পাওয়ায় আগামীতে এ ধানের আবাদ আরও বাড়বে।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...