১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,গ্রীষ্মকাল

প্রচ্ছদ > অসময়ে ঘেরের মাচায় ঝুলছে তরমুজ সফল বটিয়াঘাটার কৃষক

মৎস্যঘেরের পাড়ে শরৎকালেও মাচায় ঝুলছে সবুজ ও রসালো তরমুজ।

অসময়ে ঘেরের মাচায় ঝুলছে তরমুজ সফল বটিয়াঘাটার কৃষক

সুন্দর মহল এলাকার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের বর্ষা পেরিয়ে শরতের আনাগোনা শুরু হলেও মৎস্যঘেরের পাড়ে শরৎকালেও মাচায় ঝুলছে  সবুজ ও রসালো তরমুজ। কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের ফলে কৃষির সকল ক্ষেত্রেই অভাবনীয় পরিবর্তন হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে আর ভোক্তারা পাচ্ছেন মৌসুমের বাইরে প্রিয় ফলের স্বাদ।

খুলনার বটিয়াঘাটা, রূপসা, দিঘলিয়া, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে গ্রীষ্মের ফল তরমুজের চাষ হচ্ছে। নীচু জমিতে পানি জমলেও মাচায় তরমুজের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। অফসিজনের এ তরমুজ সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দামও ভালো পাচ্ছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) জেলায় ৯৬৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ফল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, বি-৫, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান। শরীর ঠাণ্ডা রাখা, হজমে সহায়তা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি কার্যকর। সাধারণত এই ফল গ্রীষ্ম মৌসুমেই বাজারে পাওয়া যায়। এখন বৃষ্টির মৌসুমেও চাষ হওয়ায় কৃষকেরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, খুলনার মাটির প্রকৃতি ও আবহাওয়া অফসিজনে তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে বটিয়াঘাটা, রূপসা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা ও দিঘলিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজের চাষ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচে ১ লাখ টাকারও বেশি তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা এখন লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে তরমুজের দিকে ঝুঁকছেন।

বটিয়াঘাটার কৃষক আব্দুল্লাহ গাজী বাসসকে বলেন, আগে শুধু গ্রীষ্মকালে তরমুজ চাষ হতো। এখন সরকারি সহায়তায় অফসিজনে তরমুজ চাষ শুরু করেছি। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে তরমুজ কিনে নিচ্ছে। এতে খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে।

মৌসুমি তরমুজের চেয়ে দাম বেশি পাওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন। এর ফলে সারাবছর তরমুজ খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে মানুষ। অফসিজনে তরমুজ চাষে জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সহায়তা দিচ্ছে। কৃষকদের বীজ সরবরাহ ছাড়াও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের আমরা শুধু বীজই দিচ্ছি না, কীভাবে তরমুজ চাষ করলে ফলন ভালো হবে সেই বিষয়ে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অফসিজনে তরমুজ চাষে সাফল্য পাওয়ায় এ আবাদ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু খুলনা নয়, উপকূলীয় অন্যান্য জেলাতেও অসময়ে তরমুজ চাষ বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *