২০ জুন ২০১৩


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   সংবাদপত্রে কৃষির খবর  
নাটোরে ইট ভাটার ধোঁয়ায় পচে যাচ্ছে বাগানের আম

বড়াইগ্রামে ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রায় অর্ধশতাধিক বাগানের আম সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির গাছও মরে যাচ্ছে। আমের নিচের দিক থেকে কালচে রং ধারণ করে ধীরে ধীরে পুরো আমটাই পচে গিয়ে পাকার আগেই ঝরে পড়ছে গাছ থেকে। জীবাণুনাশক ওষুধ ব্যবহার করেও পচন ঠেকানো যাচ্ছে না। আমের ব্যাপক ক্ষতিতে এখন দিশেহারা এই এলাকার চাষি। এতে এলাকার প্রায় চারশ’ বিঘা বাগানের আম পচে গিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাগানের মালিকরা। গোধড়া গ্রামে একটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় গোধড়া, গুনাইহাটি, ছাতিয়ানগাছা, চষুডাঙ্গা, ধলা এবং মানিকপুর গ্রামের অধিকাংশ বাগানের আম পচে যাচ্ছে। প্রথমদিকে ধোঁয়ার কারণে কিছুটা ক্ষতি হলেও সম্প্রতি ভাটা বন্ধ করে বিষাক্ত গ্যাস আকস্মিকভাবে ছেড়ে দেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা।

গোধড়া গ্রামের আম-চাষী আব্দুল কুদ্দুস, মোজদার আলী ও শহীদুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এক রাতে ভাটার বিষাক্ত গ্যাস চিমনির উপর দিয়ে বের করে দেয়া হয়। পরদিন সকাল থেকেই গাছের পাতা ঝরে পড়তে থাকে। দু’একদিন পর থেকে আমের নিচের অংশে কালচে (শিল পড়ার মত) দাগ পড়ে পচে যেতে থাকে। ৪-৫ দিনের মধ্যে পুরো আম কালচে বর্ণের হয়ে বোটাসহ ঝরে পড়ে। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষিরা ইটভাটা মালিকের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইলেও তিনি তাদের কথায় গুরুত্ব দেননি। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অশ্বিনী কুমার সরকার জানান, ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাস একসঙ্গে বের করে দেয়ার কারণে গাছের সালোক সংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণেই গাছপালা মরে যাচ্ছে এবং আম পচে যাচ্ছে। ভাটার মালিক ইটভাটার গ্যাস বা ধোঁয়ার কারণে আম পচে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক আফরিন আক্তার জানান, যদি ইট ভাটার কারণে এমনটি হয়, তাহলে সে ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
পাতাটি ৮০৫ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  উত্তরাঞ্চলে ৫০ হাজার বিঘায় সয়াবিন চাষের পরিকল্পনা

»  আলু চাষে সাফল্য পেতে চান চৌগাছার কৃষকরা

»  তালায় লবণসহিঞ্চু টমেটো চাষে ব্যাপক সাফল্য

»  ফসলি জমিতে সারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে

»  নাটোরে ইট ভাটার ধোঁয়ায় পচে যাচ্ছে বাগানের আম