২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   সংবাদপত্রে কৃষির খবর  
ফসলি জমিতে সারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে

ফসলি জমিতে বেড়েই চলছে রাসায়নিক সারের ব্যবহার। প্রতি বছর আবাদি জমি কমছে। পক্ষান্তরে বাড়ছে সারের পরিমাণ। এককভাবে ইউরিয়া সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জৈবসারের ব্যবহার কমে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রাসয়নিক সারের ব্যবহার। ফলে কমছে জমির উর্বরতা শক্তি। অপরদিকে ব্যয় হচ্ছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরে সার ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ লাখ ১০ হাজার টন। অথচ এর আগের অর্থবছরে ২০১০-১১ অর্থবছরে কৃষি জমিতে সারের ব্যবহার হয়েছে ৪০ লাখ ৮৫ হাজার টন। এক বছরের ব্যবধানে সারের ব্যবহার বেড়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টন।

গত ৬ বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি বছরই সারের ব্যবহার বাড়ছে। অন্যান্য সারের মধ্যে এককভাবে ইউরিয়া সারের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরে ইউরিয়া সার ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫৩ লাখ ১০ হাজার টন। অথচ আগের বছর ইউরিয়া সার ব্যবহার হয়েছে ২৬ লাখ ৫২ হাজার টন। এক বছরে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১২ এ এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সারের ব্যবহার বেড়েই চলছে : অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, উচ্চ ফলনশীল ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি মেশাতে মাটিতে জৈবসারের পাশাপাশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়। কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফসল উত্পাদনের রাসায়নিক সারের ব্যবহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এককভাবে ইউরিয়া সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট সার ব্যবহার হয়েছে ৪০ লাখ ৮৫ লাখ টন। এর মধ্যে ইউরিয়া সারের ব্যবহার হয়েছে ২৬ লাখ ৫২ হাজার টন। ২০১১-১২ অর্থবছরে মোট সার ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ লাখ ১০ হাজার টন, যার মধ্যে ইউরিয়া ৩০ লাখ টন। অর্থবছরভিত্তিক সারের ব্যবহার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি বছর সারের ব্যবহার বেড়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সারের ব্যবহার হয়েছিল ২৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৯০ টন। এক বছরের ব্যবধানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে সারের ব্যবহার বেড়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৮১০ টন। এ অর্থবছরে সারের ব্যবহার হয়েছে ৩৩ লাখ ১৩ হাজার টন। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সারের ব্যবহার হয়েছিল ৩৮ লাখ ৮৬ হাজার টন। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে অর্থবছরে সারের ব্যবহার হয়েছিল ৩৫ হাজার ৫১ টন। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সারের ব্যবহার হয়েছিল ৩৬ লাখ ৮২ হাজার ৬৭০ টন।

ইউরিয়া সারের ব্যবহার বেশি : কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসলি জমিতে ইউরিয়া সারের একচেটিয়া ব্যবহার ফসল উত্পাদন বাড়ায় না। বরং জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পায়। ৭ অর্থবছরের সার ব্যবহারের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইউরিয়া সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এর পরের স্থানে রয়েছে টিএসপি, এমওপি, ডিএপি, এনপিকেএস, জিপসাম ও জিংকসার। রিপোর্টে দেখা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে মোট সার ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ লাখ ১০ হাজার টন। এর মধ্যে শুধু ইউরিয়া সার ৩০ লাখ টন। ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট সার ব্যবহার হয় ৪০ লাখ ৮৫ লাখ টন। এর মধ্যে ইউরিয়া সার ২৬ লাখ ৫২ হাজার টন। এছাড়া টিএসপি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টন, এমওপি ৪ লাখ ৮২ হাজার টন, ডিএপি ৩০ লাখ ৫ হাজার টন, এনপিকেএস ৪০ হাজার টন, জিপসাম ২৫ হাজার টন ও জিংক ১২ হাজার টন। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৯ হাজার টন ইউরিয়া সার ব্যবহৃত হয়েছে। এ অর্থবছরে ৪ লাখ ২০ হাজার টন টিএসপি, ১ লাখ ৩৬ হাজার টন ডিএপি, ৫০ হাজার টন এনপিকেএস, ২ লাখ ৬৩ হাজার টন এমওপি, ২০ হাজার টন জিপসাম, ১০ হাজার টন জিংক ও ৫ হাজার টন এএস সার ব্যবহার হয়েছে।

আবারও বাড়তে পারে ইউরিয়া সারের দাম : অব্যাহতভাবে ইউরিয়া সারের ব্যবহার বাড়ায় উদ্বিগ্ন কৃষি মন্ত্রণালয়। কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, অন্যান্য সারের তুলনায় ইউরিয়া সারের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা এ সার ব্যবহারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, কৃষকরা বেশি পরিমাণে ইউরিয়া সার ব্যবহার করায় ফসলি গাছের রং পরিবর্তন হয়ে গাঢ় সবুজ আকার ধারণ করে। এতে কৃষক সাময়িক মনোতুষ্ট হন। কিন্তু ফলন ভালো হয় না। তিনি বলেন, সুষম সারের ব্যবহার বেশি প্রয়োজন। এ কারণে আমরা ইউরিয়া সারের দাম বাড়ানোর পক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়কে মৌখিকভাবে পরামর্শ দিয়েছি। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, দাম বাড়ানো হলে চাষীরা এককভাবে ইউরিয়া সারের দিকে ঝুঁকবেন না। তারা সুষম সার ব্যবহারের প্রতি মনোযোগী হবেন। এতে একদিকে ইউরিয়া সারে ভর্তুকি কমবে, অপরদিকে ফলনও ভালো হবে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ইউরিয়া সারের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে পুন:নির্ধারণ করা হতে পারে। প্রসঙ্গত খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ২০ টাকা।

সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
পাতাটি ২৬১০ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  চাই কৃষিবান্ধব তথ্যপ্রযুক্তি

»  উত্তরাঞ্চলে ৫০ হাজার বিঘায় সয়াবিন চাষের পরিকল্পনা

»  আলু চাষে সাফল্য পেতে চান চৌগাছার কৃষকরা

»  তালায় লবণসহিঞ্চু টমেটো চাষে ব্যাপক সাফল্য

»  ফসলি জমিতে সারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে