২৭ জুলাই ২০১৭


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   বিভিন্ন ব্যাবসা বানিজ্য  
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাটের বাজারে চাঙ্গাভাব বর্ধিত দাম পেল না কৃষক

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাটের বাজারে চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাটের দাম মণ প্রতি ২শ’ টাকা থেকে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত চড়েছে। কিন্ত চাষি এ দাম পেল না। চাষির ঘরের পাট বিক্রি শেষ হওয়ার পর দাম বেড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, গত পাট চাষ মৌসুমে খুলনা বিভাগের যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলাতে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাট চাষ হয়। এক লাখ ৯০ হাজার একশ’ ৪৭ হেক্টরে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রায় দু’লাখ হেক্টরে পাট চাষ হয়। গত বছরের শুরুতে ( ২০১১ ) এ অঞ্চলে পাটের দরপতন শুরু হয়। তার আগের বছর প্রতি মণ পাটের দাম আড়াই হাজার টাকার উপরে উঠেছিল। আর নিচে প্রতি মণের দাম ছিল ১১শ’ থেকে ১২শ’ টাকা। গত ৪-৫ বছর পাটের ভাল দাম পাওয়াতে চাষিরা নতুন করে পাট চাষে ঝুঁকে।

জুন মাসে নতুন পাট বাজারে উঠার পর প্রতি মণ ১৫শ’ টাকা থেকে ১৭শ’ টাকা দরে বিক্রি হতে থাকে। এরপর বাজারে আমদানি বাড়তে থাকলে পাটের বাজার পড়তে থাকে। কুষ্টিয়া, যশোর, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় নিম্নমানের পাট প্রতি মণ ৫শ’ টাকাতে নেমে আসে। মাঝারি মানের পাটের দাম ছিল প্রতি মণ ৮শ’ টাকা থেকে এক হাজার টাকা। ভাল মানের পাট বিক্রি হয় ১২শ’ টাকা থেকে ১৪শ’ টাকা মণ দরে। ফরিদপুর এলাকার পাট ব্যবসায়ীর কাছে পরিচিতি ডিস্টিক এ পাটের দাম ছিল ১৬শ’ টাকা থেকে ১৮শ’ টাকা মণ। রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাট চাষ হলেও ফলন কম হয় বলে চাষিদের সূত্রে জানা যায়। মণ প্রতি ৮শ’ টাকা থেকে এক হাজার টাকা কমে যাওয়াতে চাষির উত্পাদন খরচ উঠে না।

বর্তমানে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের ক্রেতারা আসায় পাটের বাজার চড়েছে বলে খুলনার দৌলতপুরের পাট রপ্তানিকারকদের সূত্রে জানা যায়। এ অঞ্চলে প্রধান প্রধান পাটের মোকাম মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ, নাকোল, দারিয়াপুর গাংনালিয়া, মাগুরা সদর, শত্রুজিত্পুর, নৌহাটা, বিনোদপুর, মহম্মদপুর, শালিখা ও আড়পাড়া, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা, ভাটই, ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ, হাটগোলালপুর ও কোটচাঁদপুর, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা, মুন্সিগঞ্জ ও জীবননগর, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর, প্রাগপুর, ভেড়ামারা, মিরপুর, কুমারখালী, পান্টি ও খোকসা, যশোর জেলার ঝিকরগাছা, চৌগাছা, নাভারন ও কেশবপুর, নড়াইল জেলার নড়াগাতি, মহাজন, কালিয়া, বড়দিয়া ও লোহাগড়া, মেহেরপুর জেলার গাংনী, বামুনদী ও মেহেরপুর সদর হাটে এখনও বেশ পাট উঠছে। মানভেদে প্রতি মণ পাট ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা পর্যন্ত দর চড়েছে। যে পাটের প্রতি মণের দাম সাড়ে ৫শ’ টাকাতে নেমে গিয়েছিল সে পাট সাড়ে ৭শ’ টাকা থেকে ৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৮শ’ মণের পাটের দাম বেড়ে এক হাজার টাকা, হাজার টাকা প্রতি মণ দামের পাটের দাম বেড়ে ১২শ’ টাকা হয়েছে এবং ১২শ’ টাকা মণের পাটের দাম বেড়ে ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান পাটের মোকাম দৌলতপুরে পাটের বাজার চাঙ্গা হয়েছে বলে পাট ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের সূত্রে জানা যায়। পাট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আহামদুল্লাহ জুট ট্রেডার্সের মালিক মিজানুর রহমান মজনু জানান, চীন, পাকিস্তান ও ভারতের বায়াররা পাট কেনায় বাজার একটু চড়েছে। তিনি জানান, মণ প্রতি ২শ’ টাকা থেকে আড়াইশ’ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে তিনি ফের দরপতনের আশংকা ব্যক্ত করেন। শৈলকুপা ও লাঙ্গলবাঁধ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ছোট ছোট জুট মিলগুলো পাট কেনায় দাম চড়েছে। বিদেশে এসব মিলের উত্পাদিত পাটজাত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা জানান। দৌলতপুরের পাট রপ্তানি প্রতিষ্ঠান উত্তরা ট্রেডার্সের মালিক প্রদীপ ভট্টাচার্য লক্ষণ জানান, ভারত ও চীন পাট ক্রয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার জন্য দাম মণ প্রতি দু’-আড়াইশ’ টাকা করে বেড়েছে।

লেখক: বিমল সাহা
পাতাটি ৩২১৪ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  কৃষিভিত্তিক শিল্পে ঋণ বিতরণ ২৪ শতাংশ বেড়েছে

»  মসলা চাষে কৃষকের আগ্রহ কমছে

»  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাটের বাজারে চাঙ্গাভাব বর্ধিত দাম পেল না কৃষক

»  ঝালকাঠিতে গুটি ইউরিয়া প্রযুক্তির ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

»  পাটজাত পণ্যে নগদ সহায়তায় নতুন শর্ত