২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   বিভিন্ন ব্যাবসা বানিজ্য  
পাটজাত পণ্যে নগদ সহায়তায় নতুন শর্ত

রপ্তানি বাণিজ্য উত্সাহিত করতে চলতি অর্থবছরে ২০১১-১২ ১৯টি পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেয়া হবে বলা হলেও তা সকল দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে না। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, যে সকল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উত্পাদিত ও বাজারজাতকৃত উক্ত ১৯টি পণ্য পাকিস্তান, হংকং ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানি করবে তারা ভর্তুকির আওতায় পড়বে না এবং তাদের ভর্তুকির আবেদন নগদ সহায়তা দানের আওতায় প্রযোজ্য হবে না।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সার্কুলারের মাধ্যমে জানিয়েছে, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে শতকরা ৫ শতাংশ হারে বিকল্প নগদ সহায়তা দেয়া হবে। আখের ছোবড়া, খড়, হোগলা দিয়ে তৈরি পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেয়া হবে শতকরা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এ ছাড়াও ঈশ্বরদী ইপিজেডে কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে লিকুইড গ্লুকোজ রপ্তানিতে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দেয়া হবে। ইপিবির তথ্যমতে পাটজাত পণ্যে নগদ সহায়তায় নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শর্ত অনুযায়ী পাটজাত পণ্যে টিটির মাধ্যমে অগ্রিম মূল্য পরিশোধের কথা থাকলেও তা রপ্তানি ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। একই সাথে রপ্তানি পণ্যের সঠিক মূল্য ও পরিমাণ এবং বিদেশী ক্রেতার যথার্থতা সম্পর্কে বাংলাদেশ জুট মিলস এসোসিয়েশন বা বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স এসোসিয়েশনের প্রত্যয়ন সনদপত্র লাগবে। সনদপত্র ইস্যুর কার্যক্রম বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণ করবে। একই বিষয়ে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক শাখায় ঘোষণা প্রদান করতে হবে। টিটির মাধ্যমে অগ্রিম মূল্য পরিশোধের অর্থ অবশ্যই দেশে আনতে হবে। উল্লেখ্য, রপ্তানিতে যে ১৯টি পণ্য নগদ সহায়তা বা ভর্তুকি পাবে তাদের মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য শতকরা ২০ ভাগ, আলু ২০ ভাগ, বাইসাইকেল ১৫ ভাগ, হাড়ের গুড়া ১৫ ভাগ, হালকা প্রকৌশল ১০ ভাগ,শতভাগ হালাল মাংস ২০ ভাগ, হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ ১০ ভাগ, চামড়াজাত দ্রব্য ১২.৫ ভাগ, জাহাজ ৫ ভাগ, ফিনিশড লেদার ৪ ভাগ, ক্রাস্ট লেদার ৩ ভাগ, প্লাস্টিক প্লেট বোতল ফ্লাক্স ১০ ভাগ, পাটজাত দ্রব্য ১০ ভাগ, বস্ত্রখাতে নতুন পণ্য ও নতুন বাজার আমেরিকা, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়া অন্য দেশ ৫ ভাগ, বস্ত্রখাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা ৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার দেশে আলু উত্পাদন বেশি হওয়ায় এ খাতকে অধিক রপ্তানিতে উত্সাহ দেয়ার জন্য রপ্তানিকৃত আলুর ওপর গতবছরের তুলনায় নগদ ১০ শতাংশ বাড়িয়ে সর্বমোট ২০ শতাংশ করা হয়েছে। একই সাথে চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানিতে ২.৫ শতাংশ নগদ সহায়তা কমানো হয়েছে বলে ইপিবি সূত্রে জানা গেছে। রপ্তানিকারক এসোসিয়েশন এবং দেশের রপ্তানিকারকরা বলেন, এ দেশের রপ্তানিকারকরা নিজ প্রচেষ্টা এবং উদ্যোগেই বেশিরভাগ পণ্য রপ্তানি করছেন। ইপিবি অথবা বাংলাদেশস্থ বিদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন, আমেরিকাসহ অন্য দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তুলনায় কমবেশি শতকরা ২৫ ভাগ উদ্যোগী হলে এ দেশকে বছরে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন রপ্তানিকারকরা।

লেখক: গিয়াসউদ্দিন আহমেদ
পাতাটি ৩১৬২ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  কৃষিভিত্তিক শিল্পে ঋণ বিতরণ ২৪ শতাংশ বেড়েছে

»  মসলা চাষে কৃষকের আগ্রহ কমছে

»  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাটের বাজারে চাঙ্গাভাব বর্ধিত দাম পেল না কৃষক

»  ঝালকাঠিতে গুটি ইউরিয়া প্রযুক্তির ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

»  পাটজাত পণ্যে নগদ সহায়তায় নতুন শর্ত