Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 Agriculture in Bangladesh. Agriculture information Service Bangladesh. Krishi Bangladesh

১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

কৃষি তথ্য বিভাগ



 


মাছের মিশ্র চাষ

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশীয় প্রজাতির মাছ। এখন চোখে পড়ে না পাবদা, গুলশা, শোলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আমিষের চাহিদা পূরণে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয় কার্প ও রুইজাতীয় মাছ। তাই দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশীয় সম্পদ। কিন্তু অর্থনৈতিক বিবেচনায় রুইজাতীয় মাছের সঙ্গে পাবদা ও গুলশা মাছের মিশ্র চাষ করা লাভজনক। ফলে সহাবস্থানের কারণে একই পুকুর থেকে বিপন্ন প্রজাতির পাবদা, গুলশাসহ রুইজাতীয় মাছের উত্পাদন পাওয়া সম্ভব। পাবদা ও গুলশা মাছের সঙ্গে রুইজাতীয় মাছ চাষে হেক্টরপ্রতি প্রায় ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আড়াই লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।

মিশ্র চাষের জন্য ৪০-৬০ শতাংশ আয়তনের পুকুরের নির্বাচন করতে হবে, যেখানে বছরে কমপক্ষে ৮-৯ মাস ৪-৬ ফুট পানি থাকে। পুকুর থেকে রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ দূর করার জন্য মিহি ফাঁসের জাল বারবার টেনে এদের সরাতে হবে। রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ দূর করার পর শতাংশে এক কেজি চুন, ৩-৪ দিন পর ৬-৮ কেজি পচা গোবর, ৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০ গ্রাম টিএসপি পানিতে গুলিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। সার প্রয়োগের ৩-৫ দিন পর পুকুরের পানি সবুজাভ হলে পোনা মজুদ করতে হবে। প্রতি শতাংশে ৫-৭ সে.মি. আকারের ৫০টি পাবদা, ৮০টি গুলশা এবং ১০-১২ সে.মি. আকারের ৮টি কাতলা, ১২টি রুই, ১০টি মৃগেল ও ২টি গ্রাসকার্পের সুস্থ পোনা মজুদ করতে হবে। পোনা ছাড়ার পরের দিন থেকে চালের কুঁড়া (৪০%), গমের ভূষি (২৫%), সরিষার খৈল (২০%) ও ফিশমিল (১৫%) মাছের দেহ ওজনের শতকরা ৩-৮ ভাগ হারে দেয়া যেতে পারে। পোনা মজুদের ১৫ দিন পর শতাংশপ্রতি ৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ৪ কেজি গোবর পর্যায়ক্রমে প্রয়োগ করতে হবে । অপেক্ষাকৃত ভালো উত্পাদন পাওয়ার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে ও প্রতি সপ্তাহে একবার হররা টানতে হবে। পুকুরের পানি কমে গেলে বাইরে থেকে পানি সরবরাহ করতে হবে। পানির স্বচ্ছতা ২০ সে.মি.-এর মধ্যে সীমিত থাকলে সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে। পাবদা ও গুলশা মাছ যথাক্রমে ৪০-৫০ ও ৬০-৭০ গ্রাম ওজনের হলে বিক্রির জন্য আহরণ করা যেতে পারে। পোনা মজুদের ৮-৯ মাস পর সব মাছ আহরণ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। গুলশা মাছ ধরার জন্য প্রথমে ঝাঁকি জাল এবং পরে পুকুর শুকিয়ে ধরা যেতে পারে। উল্লিখিত চাষ পদ্ধতিতে হেক্টরে পাবদা ২৫০-৩২৫ কেজি, গুলশা ৮০০-৯০০ কেজি এবং রুইজাতীয় মাছ ৪৫০০-৫০০০ কেজি উত্পাদন পাওয়া যায়।

উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা না করলে ব্রুড মাছের প্রজনন পরিপকস্ফতা সঠিকভাবে হয় না। আর হ্যাচারিতে রেণু পোনা যথোপযুক্ত পরিচর্যা না করলে পোনার মৃত্যুর হার বেশি হয়ে থাকে। তাই দু’দিকেই সমান নজর দেয়া প্রয়োজন। আশানুরূপ মাছের বৃদ্ধির জন্য পানির ভৌত-রাসায়নিক গুণাগুণ বজায় রাখতে হবে। হ্যাচারিতে রেণু পোনা বা পুকুরে মাছ রোগাক্রান্ত হতে পারে। এজন্য প্রজনন মৌসুমে ব্রুড পাবদা ও গুরশা মাছের নিবিড় পরিচর্যা করতে হবে। ব্রুড পাবদা ও গুলশা মাছকে আমিষ সমৃদ্ধ (৩৫-৪০%) সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ করতে হবে এবং নিয়মিত পানির গুণাগুণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ১৫ অন্তর জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য ও প্রজনন পরিপকস্ফতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পোনা উত্পাদনে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

এভাবে মিশ্র পদ্ধতিতে রুইজাতীয় মাছের সঙ্গে বিপন্ন এ দেশীয় প্রজাতি পাবদা, গুলশাসহ বিভিন্ন বিলুপ্ত প্রায় মাছ চাষ করার মাধ্যমে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়, তেমনি বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ মিশ্র চাষ করে রক্ষা করা সম্ভব হবে ।

পাতাটি ৫০২৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ
»  কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পাবদা মাছ রক্ষার
»  মনোসেক্স গলদা চিংড়ি চাষের কলাকৌশল
»  মাছ চাষে বায়োটেকনোলজি
»  উচ্চ উৎপাদনশীল থাই কৈ মাছের চাষ পদ্ধতি
»  মাছের মিশ্র চাষ



ইন্টারভিউ

ভিডিও
বিশ্ব খাদ্য দিবস
আবহাওয়া
স্থানতাপমাত্রাআদ্রতা
ঢাকা ২৯ সে. ৭৯ %
চট্রগ্রাম ২৭ সে. ৮৯ %
সিলেট ২৬ সে. ৯৩ %
বরিশাল ২৯ সে. ৭৯ %
বগুড়া ২৯ সে. ৭৯ %
যশোর ২৭ সে. ৮৯ %
পাঠক জরিপ
আমাদের কৃষকদের কি প্রযুক্তি নির্ভর হওয়া উচিত ?
অবশ্যই
হ্যা
না